সঞ্চয়পত্র কী? সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ ও সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের যোগ্যতা জানুন

সঞ্চয়পত্র হচ্ছে বাংলাদেশ এর সরকার কর্তৃক পরিচালিত একটি বিনিয়োগ প্রকল্প যা হতে মাসিকা / ত্রৈমাসিক মেয়াদান্তে আর্থিক মুনাফা প্রদান করা হয় এবং মেয়াদান্তে মুনাফাসহ আসল পরিশোধ করা হয়।

সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে জনগণের বিক্ষিপ্তভাবে থাকা সঞ্চয় একত্রিতকরণের মাধ্যমে সরকারের ঘাটতি বাজেটের অর্থ জোগান দিতে সহায়ক হয়। তাছাড়া, এই সঞ্চয়পত্রের ফলে জনগণের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয় বড় হয়ে সঞ্চয়কারীর সামাজিক নিরাপত্তা গড়ে উঠে।

আমাদের দেশ একটি স্বল্প আয়ের দেশ হওয়ায় জনগণকে সঞ্চয়ের প্রবণতা বৃদ্ধি করে দেশের বিশেষ জনগোষ্ঠী যেমন- মহিলা, বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, শারীরিক প্রতিবন্ধী ও সমাজের অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির আওতায় আনয়ন করা।

সঞ্চয় বেড়ে গেলে বৈদেশিক নির্ভরশীলতা হ্রাস পায়। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সঞ্চয়পত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সঞ্চয়পত্রের উপর বিনিয়োগ করাকে ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগ হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

এই অংশে আমরা সঞ্চয় করার জন্য কোন কোন বিষয় জানা উচিত সেই বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো। এখানে আপনি সঞ্চয়পত্র এর প্রকারভেদ ও বিভিন্ন প্রকারের সঞ্চয়পত্র, বিভিন্ন মেয়াদের সঞ্চয় সম্পর্কেও জানতে পারবেন।

সঞ্চয়পত্র কী এবং কেনো?

বাংলাদেশ জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীনে জনগণকে সঞ্চয়ী হতে উদ্বুদ্ধ করা এবং বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয় জাতীয় সঞ্চয় স্কীমের মাধ্যমে আহরণ করার উদ্দেশ্যে এবং সাধারণের অর্থ বিনিয়োগের পথ প্রশস্থ করার অন্য নাম হল সঞ্চয়পত্র।

সঞ্চয়পত্র হচ্ছে জনগণ তাদের অর্থ নির্দিষ্ট মেয়াদে ঝামেলামুক্তভাবে বিনিয়োগের একটি মাধ্যম। যেখানে বিনিয়োগ করলে সাধারণ মানুষের অর্থ হারানো অথবা ক্ষতি হওয়ার কোনো আশংকা থাকে না বললেই চলে। সঞ্চয়পত্র এর মাধ্যমে দেশের সরকার সাধারণ মানুষের সঞ্চয়কে বিভিন্ন খাতে বিভিন্ন সময় বিনিয়োগ করে থাকে।

সরকার জনগণের অর্থকে বিনিয়োগ করে মাসিকা / ত্রৈমাসিক মেয়াদান্তে সঞ্চয়পত্রের উপর মুনাফা প্রদান করে। সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে জনগণের বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকা অর্থকে সরকারের ঘাটতি বাজেটে ব্যবহার করে সরকারের উন্নয়নমূলক কাজে বিনিয়োগ করা হয়।

তাছাড়া, সঞ্চয়পত্র হচ্ছে সাধারণ জনগণের ঝামেলামুক্ত অর্থ বিনিয়োগের একটি মাধ্যম যার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নমূলক কাজে বিনিয়োগ করতে পারে। মেয়াদ শেষ হলে সঞ্চয়কারী জমানো সঞ্চয় থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ পেয়ে থাকে। যার মাধ্যমে মহিলা, বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, শারীরিক প্রতিবন্ধী ও সমাজের অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির আওতায় আনা যায় যায়।

সঞ্চয়পত্র প্রকল্প সংখ্যা কত প্রকার এবং কি কি?

সঞ্চয়পত্র হচ্ছে বাংলাদেশ সরকারের একটি বিনিয়োগ প্রকল্প যার মাধ্যমে সাধারণ জনগণ দেশের উন্নয়নমূলক কাজে সরারসরি অংশগ্রহণ করতে পারে। আজ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার সর্বমোট ১০টি সঞ্চয় প্রকল্প হাতে নিয়েছে। নিচে ছক আকারে সবগুলো প্রকল্পের মেয়াদ, প্রবর্তনকাল ও কত সালে বাতিল হয় তা উল্লেখ্য করা হলো।

ক্রমিকসঞ্চয়ের নামমেয়াদ (বছর)প্রবর্তন (সাল)বাতিল (সাল)
 বাংলাদেশ সেভিংস সার্টিফিকেটস বা বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র ১০ ১৭৭৩১৭৭৭
 ২ প্রতিরক্ষা সঞ্চয়পত্র ৮ ১৯৭৬ ২০০২
 ৩ ৫ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র ৫ ১৯৭৭– 
 ৪ বোনাস সঞ্চয়পত্র ৬ ১৯৭৭ ১৯৯২
 ৫ ৩ বছর মেয়াদী সঞ্চয়পত্র ৩ ১৯৮৮ ১৯৯৩
 ৬ ৬ মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ৫ ১৯৯৭ ২০০২
 ৭ পরিবার সঞ্চয়পত্র ৫ ১৯৯৭ ২০০২
 ৫ ২০১০ –
 ৮ ৩ মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ৩ ১৯৯৮ –
 ৯ জামানত সঞ্চয়পত্র ৩ ১৯৯৯ ২০০২
১০ পেনশনার সঞ্চয়পত্র ৫ ২০০৪

এই ১০টি সঞ্চয়প্রকল্প বাংলাদেশের মানুষকে উৎসাহ দেয় বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পসমূহতে কাজে লাগাতে। এই ১০টি প্রকল্পের মধ্যে কয়টি সঞ্চয় প্রকল্প বর্তমানে চালু রয়েছে তা নিম্নে উল্লেখ্য করা হলো।

বর্তমানে চালু থাকা সঞ্চয়পত্র প্রকল্পসমূহের মেয়াদ কত?

বর্তমানে বাংলাদেশে ১০টি প্রকল্পের মধ্যে ৪টি সঞ্চয়প্রকল্প চালু রয়েছে। এই ৪টি বিনিয়োগ প্রকল্পই সাধারণ জনগণের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। নিচে বর্তমানে চালু থাকা সঞ্চয়পত্র প্রকল্পের মেয়াদ ও প্রবর্তনকাল ছক আকারে উল্লেখ্য করা হলো।

ক্রমিকসঞ্চয়পত্রের নামমেয়াদ (সাল)প্রবর্তন (সাল)
 ৫ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র১৯৭৭
 পরিবার সঞ্চয়পত্র২০১০
 ৩ মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র১৯৯৮
 পেনশনার সঞ্চয়পত্র২০০৪

উপরের ছকে উল্লেখিত ৪টি বিনিয়োগ সঞ্চয়পত্র বর্তমানে চালু রয়েছে। এই চারটির মধ্যে সবচেয়ে পুরাতন প্রকল্প হলো ৫ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র। এই বিনিয়োগ প্রকল্পটি চালু হয়েছিলো ১৯৭৭ সালে। ৩ মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র চালু হয়েছে ১৯৯৮ সালে। এই সঞ্চয়প্রকল্পের মেয়াদ ৩ বছর।

পরবর্তীতে ২০০৪ সালে চালু হয় সরকারি চাকুরীজীবীদের জন্য পেনশনার সঞ্চয়পত্র। এই সঞ্চয়পত্রে মেয়াদ ৫ বছর। অপরদিকে পরিবার সঞ্চয়পত্র চালু করা হয়েছিলো ২০১০ সালে। এই সঞ্চয় বিনিয়োগ প্রকল্পটির মেয়াদ ৫ বছর।

সঞ্চয়পত্র কোথায় পাওয়া যায়?

বাংলাদেশের সকল ব্যাংকে সঞ্চয়পত্র কিনতে পাওয়া যায় না। মূলত ৪ টি প্রতিষ্ঠান সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে থাকে। আপনি চাইলে এই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বাংলাদেশের যেকোন প্রান্ত থেকে সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন।সরদঘাট ও ময়মনসিংহ ব্যতীত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তথা বাংলাদেশ ব্যাংকের সকল অফিসে পেয়ে যাবেন সঞ্চয়পত্র।

তাছাড়া ইসলামি শরীয়াহ্‌ ভিত্তিক ব্যাংক ব্যতীত বাংলাদেশের সকল তফসিলিভুক্ত ব্যাংকে সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন। যেমনঃ সোনালী ব্যাংক, রুপালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ব্যাংকে সঞ্চয়পত্র ক্রয় করতে পারবেন। নিচের লিস্ট এর যেকোন ব্যাংক থেকে আপনি সঞ্চয়পত্র ক্রয় করতে পারবেন।

বাণিজ্যিক ব্যাংক (রাষ্ট্রয়াত্ত)

  • রূপালী ব্যাংক লিমিটেড
  • বেসিক ব্যাংক লিমিটেড
  • বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড
  • সোনালী ব্যাংক লিমিটেড
  • জনতা ব্যাংক লিমিটেড
  • অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড

বাণিজ্যিক ব্যাংক (বেসরকারি)

  • ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি
  • যমুনা ব্যাংক লিমিটেড
  • এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড
  • এনআরবি ব্যাংক লিমিটেড
  • পদ্মা ব্যাংক লিমিটেড
  • মধুমতি ব্যাংক লিমিটেড
  • পূবালী ব্যাংক লিমিটেড
  • উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড
  • এবি ব্যাংক লিমিটেড
  • আইএফআইসি ব্যাংক লিমিটেড
  • ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি
  • সিটি ব্যাংক পিএলসি
  • ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড
  • এনসিসি ব্যাংক লিমিটেড
  • ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি
  • ডাচ-বাংলা ব্যাংক পিএলসি
  • ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড
  • প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড
  • মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড
  • সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড
  • বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেড
  • ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড
  • ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড
  • প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেড
  • ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড
  • মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেড
  • মিডল্যান্ড ব্যাংক লিমিটেড
  • মেঘনা ব্যাংক লিমিটেড
  • সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার এন্ড কমার্স ব্যাংক লিমিটেড
  • সীমান্ত ব্যাংক লিমিটেড
  • কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড
  • বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড
  • সিটিজেনস ব্যাংক পিএলসি

বাণিজ্যিক ব্যাংক (বিদেশি)

  • হাবিব ব্যাংক লিমিটেড
  • স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ
  • ন্যাশনাল ব্যাংক অব পা
  • সিটিব্যাংক এনএ
  • এইচএসবিসি
  • উরি ব্যাংক
  • কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন
  • কিস্তান
  • ভারতীয় স্টেট ব্যাংক
  • ব্যাংক আলফালাহ্

বিশেষায়িত ব্যাংক

  • বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক
  • রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক
  • প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক

উপরের উল্লেখিত সকল ব্যাংক থেকে আপনি চাইলে সঞ্চয়পত্র ক্রয় করতে পারবেন। ইসলামী শরিয়াহ্‌ ব্যাংক গুলো সুদবিহীন হওয়ায় তারা সঞ্চয়পত্র ক্রয় বিক্রয় করেনা।

আরও পড়ুনঃ ব্যাংক লোন কি? কিভাবে সহজে ব্যাংক লোন পাওয়া যায়

সঞ্চয়পত্র কেনার জন্য কি ডকুমেন্ট লাগে?

সঞ্চয়পত্র ক্রয় করার জন্য নিচের ডকুমেন্ট দরকার হবে। আপনি ক্রয় করার আগে সবকিছু দেখে শুনে যাবেন, যাতে আপনার সঞ্চয়পত্র ক্রয় করতে কোন অসুবিধা না হয়।

১। আবেদন ফরম

সঞ্চয়পত্র কেনার জন্য একটি আবেদন ফরম লাগবে। এই ফরমটি আপনি বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংক বাদে সকল তফসিলিভুক্ত ব্যাংকে পেয়ে যাবেন অথবা সঞ্চয় ব্যুরোর অফিস থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন। আপনি চাইলে ডাকঘর থেকেও আবেদনপত্রটি সংগ্রহ করতে পারবেন।

উপরের ডাউনলোড বাটনে ক্লিক করে সঞ্চয়পত্র কেনার জন্য যে আবেদন ফরম দরকার, সেই ফরমটি ডাউনলোড করতে পারবেন।

২। জাতীয় পরিচয়পত্র ( গ্রাহক এবং নমিনি)

এখানে দুইজনের জাতীয় পরিচয়পত্র মিলে সর্বমোট দুই কপি করে মোট ৪ কপি লাগবে। দুইজনের একজন যিনি সঞ্চয়পত্র কিনবেন এবং অপরজন হচ্ছে যিনি সঞ্চয়পত্র ক্রয় করবেন তার কাছের একজনকে নমিনি করবেন।

যাকে তিনি নমিনি করবেন তার ভোটার আইডি কার্ডের ২ কপি ফটোকপি লাগবে। নমিনি হিসেবে গ্রাহক তার ছেলে/ মেয়ে/ কাছের কাউকে রাখতে পারবেন।

৩। গ্রাহকের টিআইএন সার্টিফিকেট (TIN)

সকল গ্রাহকের জন্য টিআইএন সার্টিফিকেট লাগে না। তবে যাদের আয় ২ লক্ষ টাকার বেশি শুধু তাদের টিআইএন সার্টিফিকেট লাগবে। আপনি চাইলে যেকোনো কম্পিউটারের দোকান থেকে আপনার জন্য টিআইএন সার্টিফিকেট করে নিতে পারবেন।

বি:দ্র: বাংলাদেশের সকল ব্যাংকের ক্ষেত্রে ব্যাংকে হিসাব থাকতে হবে। TIN সার্টিফিকেট ব্যতীত ২,০০,০০০ (দুই লক্ষ) টাকার একটি সঞ্চয়পত্র ক্রয় করা যাবে। সঞ্চয়পত্রের মুনাফার টাকা গ্রাহকের হিসাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমা হবে।

৪। নমিনি নাবালক হলে প্রত্যয়নপত্র

নমিনি হিসেবে যদি কেউ কোনো নাবালককে নমিনি বানাতে চায়, সেক্ষেত্রে তার প্রত্যয়নপত্র গ্রহনযোগ্য হবে। এই প্রত্যয়পত্র হিসেবে আপনি নাবালকে তার চাচা দাদা, খালু, খালা ইত্যাদি যে কোন ব্যক্তি এনআইডি এবং তার তথ্য ও স্বাক্ষর গ্রহণ করতে হবে।

৫। হিসাবের চেক বই

আপনি যদি কোনো ব্যাংকে একাউন্ট করে থাকেন, তাহলে সেক্ষেত্র আপনার হিসাবের চেক বইয়ে ফটোকপি লাগবে। আর যদি একাউন্ট না থাকে তাহলে আপনাকে ঐ ব্যাংকে একাউন্ট তৈরি সেই চেকের ফটোকপি করে নিতে পারবেন।

৬। পেনশনার সঞ্চয়পত্র এর ক্ষেত্রে

পেনশনার সঞ্চয়পত্র হলে আপনার মুনাফা অন্যান্য সঞ্চয়পত্রের থেকে বেশি হবে। তাছাড়া পেনশনার সঞ্চয়ের জন্য কোনো ভ্যাট কাটে না।

আপনি যদি পারিবারিক অর্থ দিয়ে সঞ্চয়পত্র ক্রয় করে থাকেন তাহলে উপযুক্ত প্রমাণাদি দেখিয়ে পেনশনার সঞ্চয়পত্র ক্রয় করতে পারবেন।

৫ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ক্রয় করতে পারবেন?

ব্যক্তি পর্যায়ে

একজন প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশী নাগরিক একক বা যুগ্ম নামে ৫ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানিক পর্যায়ে

ক) আয়কর বিধিমালা ১৯৮৪ (অংশ-২) এর বিধি ৪৯-এর উপ-বিধি (২) এ সজ্ঞায়িত স্বীকৃত ভবিষ্যত তহবিল এবং ভবিষ্য তহবিল আইন ১৯২৫ এর ১৯ নং আইন অনুযায়ী স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিল এবং

খ) আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ৬ষ্ঠ তফসিল এর পার্ট-এ এর অনুচ্ছেদ ৩৪ অনুযায়ী

  • উদ্যান খামার প্রকল্প,
  • রেশম গুটিপোকা পালনের খামার,
  • ছত্রাক উৎপাদন এবং
  • ফল ও লতা পাতার চাষ
  • মৎস্য খামার
  • হাঁস-মুরগীর খামার,
  • পেলিটেড পোলট্রি ফিডস্‌ উৎপাদন,
  • বীজ উৎপাদন,
  • স্থানীয় উৎপাদিত বীজ বিপণন,
  • গবাদি পশুর খামার,
  • দুগ্ধ এবং দুগ্ধজাত দ্রব্যের খামার,
  • ব্যাঙ উৎপাদন খামার,

ইত্যাদি হতে অর্জিত আয় যা সংশ্লিষ্ট উপ-কর কমিশনার কর্তৃক প্রত্যয়নকৃত।

পরিবার সঞ্চয়পত্র কারা কিনতে পারবেন করতে পারবেন?

পরিবার সঞ্চয়পত্র ক্রয় করতে পারবেন যেসকল নারীর বয়স ১৮ বছরের উর্দ্ধে। কিন্তু পুরুষের ক্ষেত্রে যাদের বয়স ১৮ বছর তারা ক্রয় করতে পারবেন না।

৬৫ বছরের উর্দ্ধে বাংলাদেশের সকল নাগরিক পরিবার সঞ্চয়পত্র ক্রয় করতে পারবেন। অপরদিকে প্রাপ্ত বয়স্ক প্রতিবন্ধী বাংলাদেশী নাগরিক হলেও এই সঞ্চয়পত্র ক্রয় করতে পারবেন।

তবে এই শর্তে একজন প্রতিবন্ধী পরিবার সঞ্চয়পত্র ক্রয় করতে পারবেন যদি প্রতিবন্ধীকতার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট জেলা সমাজসেবা কার্যালয় কর্তৃক সত্যায়িত করা হয়।

৩ মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র কারা কিনতে পারবেন?

ব্যক্তি পর্যায়ে

একজন প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশী নাগরিক একক বা যুগ্ম নামে ৩ মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানিক পর্যায়ে

অটিস্টিকদের জন্য প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা যে সকল প্রতিষ্ঠান অটিস্টিকদের সহায়তায় কাজ করে। তবে শর্ত থাকে যে, মুনাফার অর্থ অটিস্টিকদের সহায়তা কাজে ব্যয় হবে মর্মে সংশ্লিষ্ট জেলা সমাজ সেবা অফিস হতে প্রত্যয়নকৃত হতে হবে।

পেনশনার সঞ্চয়পত্র কারা ক্রয় করতে পারবেন?

পেনশনার সঞ্চয়পত্র ক্রয় করার জন্য আপনাকে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং সরকারের বিভিন্ন খাতে চাকরী করতে হবে, অন্যথায় আপনি পেনশনার সঞ্চয়পত্র ক্রয় করতে পারবেন না।

আপনি যদি –
সরকারী, আধা-সরকারী, স্বায়ত্তশাসিত,আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের পিআরএল ভোগরত/ অবসরপ্রাপ্ত চাকুরীজীবী, সুপ্রীম কোর্টের পিআরএল ভোগরত/ অবসরপ্রাপ্ত মাননীয় বিচারপতি, সশস্ত্র বাহিনীর পিআরএল ভোগরত/ অবসরপ্রাপ্ত সদস্য এবং উল্লিখিত ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভূক্ত মৃত চাকুরীজীবীদের পারিবারিক পেনশন সুবিধাভোগী স্বামী/স্ত্রী/সন্তানগণ।

কোন প্রকার সঞ্চয়পত্রে কত টাকা বিনিয়োগ করা যাবে ?

আপনি চাইলে বিভিন্ন প্রকারের সঞ্চয়পত্রে বিভিন্ন প্রকারে টাকা বিনিয়োগ করতে পারবেন। বিভিন্ন প্রকারের সঞ্চয়পত্রের ক্রয়সীমা নিম্নরূপ-

  ক্রমিক সঞ্চয় প্রকল্পের নাম   সর্বনিম্ন ক্রয়সীমা (টাকা)  সর্বোচ্চ ক্রয়সীমা (টাকা)
  ব্যক্তি পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ 
 একক নামেযুগ্ম নামে 
 ১ ৩ মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র   ১ লক্ষ ৩০ লক্ষ  ৬০ লক্ষ  উর্দ্ধসীমা নাই
 ২ ৫ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র   ১০ টাকা  ৩০ লক্ষ   ৬০ লক্ষ  উর্দ্ধসীমা নাই
 ৩ পরিবার সঞ্চয়পত্র  ১০ হাজার  ৪৫ লক্ষ  – –
 ৪  পেনশনার সঞ্চয়পত্র  ৫০ হাজার ৫০ লক্ষ – –

আপনি পেনশনার সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে আনুতোষিক ও সর্বশেষ ভবিষ্য তহবিল হতে প্রাপ্ত অর্থের বেশী টাকা কখনোই ক্রয় করতে পারবেন না।পাঁচ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র এবং পরিবার সঞ্চয়পত্র তিনটি স্কিমের বিপরীতে সমন্বিত বিনিয়োগের উর্ধ্বসীমা একক নামে সর্বোচ্চ ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা অথবা যৌথ নামে সর্বোচ্চ ১(এক) কোটি টাকা।

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কখন পরিশোধ করা হয়?

আপনি যদি সঞ্চয়পত্র এর মুনাফা কখন প্রদান করে, এই প্রশ্নের উত্তর জানতে চান তাহলে এই প্যারাগ্রাফটি আপনার জন্য। সঞ্চয়পত্রের মুনাফার উপর উৎসে কর কর্তনের পর অর্থাৎ নীট প্রাপ্য নিম্নোক্ত কিস্তিতে পরিশোধ করা হয়ে থাকে।

ক্রমিকসঞ্চয়পত্রের নামমুনাফা প্রাপ্তির সময়কাল
 পরিবার সঞ্চয়পত্রমাসিক
 ৩ মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র তিন মাস অন্তর
  পেনশনার সঞ্চয়পত্রতিন মাস অন্তর
 ৫ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র মেয়াদান্তে

বর্তমানে প্রচলিত সঞ্চয়পত্র সমূহের মুনাফার হার কি রূপ ?

 সঞ্চয়পত্রের নাম সময়সীমাপ্রাইজবন্ড ও ডাক জীবন বীমা ব্যতীত সকল প্রকার সঞ্চয় স্কিমে ক্রমপুঞ্জিভূত বিনিয়োগের পরিমাণ 
১৫,০০,০০০  টাকা পর্যন্ত১৫,০০, ০০১ – ৩০,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত৩০,০০,০০১ টাকা থেকে তদূর্ধ্ব 
  ৫ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র  ১ম বৎসরান্তে ৯.৩৫% ৮.৫৪% ৭.৭১%
 ২য় বৎসরান্তে ৯.৮০% ৮.৯৫%৮.০৮%
 ৩য় বৎসরান্তে ১০.২৫% ৯.৩৬% ৮.৪৫%
 ৪র্থ বৎসরান্তে ১০.৭৫% ৯.৮২% ৮.৮৬%
 ৫ম বৎসরান্তে১১.২৮% ১০.৩০% ৯.৩০%
  ৩ মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র  ১ম বৎসরান্তে ১০.০০% ৯.০৬% ৮.১৫%
 ২য় বৎসরান্তে ১০.৫০% ৯.৫১% ৮.৫৬%
 ৩য় বৎসরান্তে ১১.০৪% ১০.০০% ৯.০০%
   পেনশনার সঞ্চয়পত্র ১ম বৎসরান্তে ৯.৭০% ৮.৮৭% ৮.০৪%
 ২য় বৎসরান্তে ১০.১৫% ৯.২৮% ৮.৪২%
 ৩য় বৎসরান্তে ১০.১৫% ৯.৭৪% ৮.৮৩%
 ৪র্থ বৎসরান্তে ১১.২০% ১০.২৪% ৯.২৯%
 ৫ম বৎসরান্তে ১১.৭৬% ১০.৭৫% ৯.৭৫%
  পরিবার সঞ্চয়পত্র  ১ম বৎসরান্তে ৯.৫০% ৮.৬৬% ৭.৮৩%
  ২য় বৎসরান্তে ১০.০০% ৯.১১% ৮.২৫%
  ৩য় বৎসরান্তে ১০.৫০% ৯.৫৭% ৮.৬৬%
  ৪র্থ বৎসরান্তে ১১.০০% ১০.০৩% ৯.০৭%
  ৫ম বৎসরান্তে ১১.৫২% ১০.৫০% ৯.৫০%

শেষকথাঃ

এই অনুচ্ছেদে সঞ্চয়পত্র সংক্রান্ত সকল তথ্য বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। যেখানে আপনি সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের যোগ্যতা, সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ, এবং বিভিন্ন সঞ্চয়ের সুদের হার ইত্যাদি বিষয়ে জানতে পারবেন। যদি এই লেখাটি পড়া না বুঝতে পারেন, তাহলে কমেন্ট করতে ভুলবেন না। আপনার একটা কমেন্ট আমাদের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a Comment